Scroll Top
19th Ave New York, NY 95822, USA

মুখবন্ধ: যাত্রাপালা চন্দ্রগুপ্ত

Chadragupta10

মুখবন্ধ
না মুখ বন্ধ নয়, হা করে খোলা, কারণ এই পাণ্ডুলিপির প্রথম কয়েকটি পাতা ছেঁড়া ছিল…

বেশ কয়েক বছর আগে সস্ত্রীক বেড়াতে গিয়েছিলাম সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের রাজধানী পাটলিপুত্র, অর্থাৎ এখনকার পাটনায়। একদিন বিকেলে শহর দেখতে বের হয়ে হোটেলের একেবারে পাশের এক গলিতে এক পুরোনো সামগ্রী অর্থাৎ এন্টিকসের দোকানে ঢুকলাম। মূলত বিদেশি ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করতে আসল-নকল মূর্তি, পুরনো যুগের মতো করে তৈরি আসবাব, তৈজসপত্রে ঠাসা সেই দোকানের এক কোনায় অনেক পুরোনো বইপত্র, ভূর্জপত্র, তালপত্র, তুলোট কাগজে লেখা আসল পাণ্ডুলিপি স্তুপ করে রাখা ছিল। এত ধূলা জমেছিল সেই স্তুপে যে দুঃসাহস করে হাত দেবো কি দেবো না ভাবছিলাম যখন, ঠিক তখনই, হঠাৎ, উপর থেকে একটি বান্ডিল আমার পায়ের কাছে এসে পড়লো। পতনজনিত কারণে ধূলা খানিকটা কমেছিল। পাশের দেয়ালে খান দুয়েক বাড়ি দিতেই বান্ডিলটি কমবেশি ধূলামুক্ত হলো।

পুরাতন, অতি পুরাতন হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া লাল সালু কাপড়ে বাঁধা বান্ডিল। কাপড়ের গিঁট খুলে দেখা গেল, তালপাতায় লেখা একটা পুঁথি। ডানপাশে ছিদ্র করে হলদেটে হয়ে যাওয়া উপবীতের সুতা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। বহু যুগ আগের কালো কালি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে বটে, কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর হস্তাক্ষরে এখনও চোখ আটকে যায়। খুবই আশ্চর্য হলাম, যখন দেখলাম যে পান্ডুলিপিটি পন্ডিতি বাংলায় লেখা এবং কিছু শব্দ অপরিচিত হলেও বুঝতে তেমন অসুবিধা হচ্ছে না।

অতি সামান্য দামে পান্ডুলিপিটি কিনে নিলাম এবং হোটেলে ফিরে গিয়ে পড়তে শুরু করলাম। এত আনন্দ পাচ্ছিলাম পড়ে যে এক নাগাড়ে, কোনো বিরতি না দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে পান্ডুলিপিটি পড়ে শেষ করলাম। মূল রচনাটি কমবেশি অটুট আছে। রচনার কাহিনীর সঙ্গে আমাদের সময়ের বাংলাদেশ কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া, ঘটতে থাকা বেশ কিছু কাহিনীর মিল দেখে একটু অবাকই হচ্ছিলাম।

প্রহসনধর্মী রচনাটি কোথাও সংলাপ আকারে, কোথাওবা টানা গদ্যে লেখা। রচনাটি ল্যাপটপে নিজের হাতে টাইপ করে ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও বিডিনিউজে প্রচার করার পর মুগ্ধ পাঠকদের অনুরোধে এবং সামনের বইমেলার কথা ভেবে, এবার মুদ্রণের দিকে এগোচ্ছি। মুদ্রণের অন্যতম কারণ, তালাপাতার ফালিগুলো এতটাই পুরনো হয়েছে যে খুব সতর্কতার উল্টানো সত্তেও একেকটি ফালি ভেঙে গুড়া হবার উপক্রম। মুদ্রণ শেষ হতে হতে একটি ফালিও অবশিষ্ট থাকে কিনা সন্দেহ।

সামনের দিকের কয়েকটি পাতা ছেঁড়া ছিল বলে জানার উপায় ছিল না, কে এই পান্ডুলিপির লেখক, কত সালে তিনি এটা লিখেছিলেন কিংবা রচনাটির শিরোনামই বা কী ছিল। কিন্তু প্রকাশ করতে গেলে বইয়ের নামতো একটা লাগবেই। সাত পাঁচ ভেবে ঠিক করলাম, ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নামটি খারাপ হবে না, কারণ ১, সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত এই কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র, এবং ২. পান্ডুলিপিতে উৎসর্গের পাতাটি অক্ষত ছিল এবং আমাদের অজ্ঞাতনামা লেখক সম্রাট চন্দ্রগুপ্তকেই তাঁর রচনাটি উৎসর্গ করেছিলেন। ‘যাত্রাপালা’ শব্দটি যোগ করার কারণ, আগের যুগে এতদাঞ্চলে উপন্যাস ছিল না, নাটকও ছিল না, তবে যাত্রা ছিল এবং যাত্রাপালাও নিশ্চয়ই লেখা হতো।

চন্দ্রগুপ্ত! তোমার সহিত আমার পরিচয় নাই – পরিচয় হইবার সম্ভাবনা কিংবা প্রয়োজনও নাই – সকল অর্থেই বহু দূরের মানুষ তুমি –  তোমার সকল দোষ বিস্মৃত হইয়া – এমন দুটি অনন্য অর্জনের জন্য আমার এই সামান্য সাহিত্য-কর্মটি তোমাকে উৎসর্গ করিলাম –  যে দুই অর্জনের নিমিত্ত গৌরজন চিরকাল তোমার নিকট কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকিবে – তুমি, একমাত্র তুমিই, রাষ্ট্রপিতা শাক্যমজ্জবের নিধন এবং একসপ্ততি সনের নরপশুদের বিচার করিতে সমর্থ হইয়াছ! তোমার কল্যাণ হোক!

সুখের বিষয় এবং অবাক ব্যাপার, পাঠকেরাও মোটামুটি কঠিন ভাষায় লেখা এবং এত যুগ আগের একটা রচনা ‘চন্দ্রগুপ্ত যাত্রাপালা’ পছন্দ করেছেন। নিজের কালে মূল লেখকও নিশ্চয়ই যশস্বী হয়েছিলেন। বর্তমান যুগেও তাঁর অনবদ্য রচনার জনপ্রিয়তা দেখে যেতে পারতেন যদি তিনি, তবে কতই না আহ্লাদিত হতেন, আহা! এতে একটা বিষয় প্রমাণিত হয়, উত্তম সাহিত্যকর্ম স্থান-কাল-পাত্র-জয়ী।

দক্ষিণ এশিয়ার যুগান্তরের জটিল ক্ষমতা-বিজ্ঞান কিংবা রাজনীতি-শাস্ত্র প্রহসনের মধূর রসে জারিত করে পরিবেশন করা হয়েছে এই রচনায়, যাতে পাঠক নিজের অজান্তে এবং মনের আনন্দে তা গলাধঃকরণ করতে পারেন। একাধিক ভাষায় সাহিত্যপাঠে আমার যে অভিজ্ঞতা তার ভিত্তিতে বলতে পারি, যাত্রাপালা চন্দ্রগুপ্ত এক অভূতপূর্ব সাহিত্যকর্ম। জীবনে কিছু সুকৃতি যদি করে থাকি, চন্দ্রগুপ্ত সংকলন ও সম্পাদনা তার অন্যতম। আবার মনটা একটু খারাপও হচ্ছে এই ভেবে যে আমি যদি পাটনায় পুরনো জিনিষের সেই দোকানে না যেতাম, তাহলে কখনই এই দারুণ সাহিত্যকর্মটি আমার নজরে পড়তো না। এই মহৎ সাহিত্যকৃতি আমার এবং আপনাদের পড়ার সুযোগও হতো না। অতীত যুগের কত চমৎকার সাহিত্যকর্মই না এভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে চিরতরে হারিয়ে যায়।

অনেক সরল পাঠক চন্দ্রগুপ্ত যাত্রাপালার একাধিক চরিত্রের সঙ্গে নিজের কিংবা বর্তমান সময়ের কিছু ব্যক্তি ও চরিত্রের নামের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ‘এই শুনছ, তোমারে নিয়াতো অমুকে লেখছে!’ ‘ওমুকেতো এইডা কয় নাই। হ্যার মুখে এই সংলাপ দিলেন ক্যান?’ ‘লেখেন, লেখেন, হ্যারে লইয়া ভালো কইরা লেখেন। হ্যায় আমার দুই চক্ষের বিষ!’ ‘কী আমারে নিয়া লেখছে? এত বড় সাহস! এমন মামলা হান্দাইয়া দিমু, বুজব ঠ্যালা!’ চন্দ্রগুপ্ত যাত্রাপালায় সমসাময়িক কালে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার স্থান ও পাত্রকে চিনতে পেরেছেন বলেও ভাবেন অনেক পাঠক। যারা চিনতে পারছে না, তাদের নিয়ে অন্যরা হাসাহাসি করে। কোন নামের কী অর্থ, কোন নাম কতটা বিকৃত হয়েছে – এই সব ফালতু কথা ভাবতে ভাবতে কাহিনির রসটাই পাঠকেরা গ্রহণ করতে পারছেন না। আকাশের দিকে আঙুল বাগিয়ে চাঁদ দেখাচ্ছে লেখক, কোথায় চাঁদের দিকে তাকাবে তা নয়, পাঠক ফ্যাল ফ্যাল করে আঙুলের দিকে তাকিয়ে সমালোচনা করতে থাকে, আঙুল কতটা মোটা কিংবা চিকন। রসগোল্লা কতটা গোল, কীরকম গোল, ভাবতে ভাবতে পাঠকের মুখের কষ বেয়ে রস গড়িয়ে পড়ে কাপড় নষ্ট হয়, পেটে যায় গোল্লা।

‘পথিক তুমি অবশ্যই পথ হারাইয়াছ!’ কল্পনাশ্রিত ফিকশন আর বাস্তবাশ্রিত রিপোটিং গুলিয়ে ফেললে চলবে? প্রথম কথা হচ্ছে, চন্দ্রগুপ্ত একটা প্রহসন, সাহিত্য, ইচ্ছে করে কারও কুৎসা রচনা নয়, এবং দ্বিতীয়ত, যে কোনো উত্তম সাহিত্য সৃষ্টি করা ‘যায়’ না, সৃষ্টি ‘হয়’, রচয়িতা মরণশীল মিডিয়াম মাত্র। যাত্রাপালার মূল, অজ্ঞাতনামা লেখকও এইসব অনাসৃষ্টি-অনাচার দেখে মরমে (আবার) মরে যেতেন, সন্দেহ নেই। আমারতো রীতিমত সন্দেহই হচ্ছে, চন্দ্রগুপ্তের জনপ্রিয়তা কি এর সাহিত্যমূল্যের কারণে, নাকি নেহায়েতই হাজার হাজার অতি কল্পনাপ্রবণ পাঠকের চিন্তার উর্বরতার কারণে। রচনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লেখকের মৃত্যু হয়। পাঠক তাই বোঝে, যা সে বুঝতে চায়। প্রত্যেক পাঠক নিজের মতো করে রচনার বিকাঠামোকরণ অর্থাৎ ডিকন্সট্রাকশন করে। অনেকটা এরকম কথাই বলেছিলেন ফরাসি দার্শনিক দেরিদা, খুব দেরি করে নয় অবশ্য, অনেক আগেই বলেছিলেন।

যাই হোক, দাদা ও দিদিসকল, এতদিন যা হবার হয়েছে। যাত্রাপালা চন্দ্রগুপ্ত পুস্তক আবিষ্কার ও প্রকাশের যে পটভূমি আমি বর্ণনা করলাম, তাতে তোমরা নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করতে শুরু করো, মনে আর কোনো সন্দেহই রেখো না যে জীবিত কোনো ব্যক্তি, বর্তমান যুগের কোনো স্থান বা ঘটনা বিশেষের সঙ্গে যাত্রাপালার কোনো চরিত্র, ঘটনা বা স্থানের কোনো মিল নেই, থাকার কোনো কারণও নেই। ঘূণাক্ষরেও যদি মিল পাওয়া যায়, তবে তা শতভাগ, সহস্রভাগ কাকতালীয়।

ঘূণপোকা যখন বাঁশ বা কাঠ কাটে, সেই বাঁশ বা কাঠের গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র সৃষ্টি হয় এবং ছিদ্রগুলো মিলে অনেক ক্ষেত্রে কোনো না কোনো ভাষার একেকটি অক্ষর মনে হতেই পারে। এটাই ঘূণাক্ষর। নিজের শাসনামলে ঘূণপোকাদেরও সাক্ষরতা অর্জিত হয়েছে – এমন দাবি শিশু কিংবা পাগলের মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তি দূরে থাক, চন্দ্রগুপ্ত নিজেও করবে না। অসম্ভব! ঘূণেরা লেখাপড়া জানে না। তাদের উর্ধ্বতন চোদ্দ পুরুষের কেউ কখনও তক্ষশীলায় ভর্তি হয়নি, হবেও না। তবে কি তক্ষশীলায় এখনও ঘূণ ধরেনি, কখনও ধরবে না বলছেন? আকৈত্রজৈমন কী বলেন, কিংবা ঐরাবিণ সৈদক?

বিনত
শিশির ভট্টাচার্য্য
যাত্রাপালা চন্দ্রগুপ্ত সংগ্রাহক ও সঙ্কলক

Comments (32)

http://buysildenshop.com/ – price of viagra at walmart pharmacy

http://buylasixshop.com/ – what is furosemide for

Comprare Il Viagra Su Internet

Cialis Professional Belgique Libre

Viagra Levitra Cialis Online

The Canadian Medstore No Percription

comparison of viagra levitra and cialis

Buy Viagra In Ontario women take kamagra Pak Dose

why cant i import kamagra to canada center kamagra oral jelly generic kamagra

Urnroc purchase hydroxychloroquine online CO generated via heme oxygenasemediated degradation of cellular heme also stimulates sGC albeit to a lesser extent than NO Friebe et al. Paeemi

2014 AHA ACC guideline for the management of patients with non ST elevation acute coronary syndromes a report of the American College of Cardiology American Heart Association Task Force on Practice Guidelines buy cialis online usa Currently, young breast cancer patients are given the opportunity to consider fertility preservation

When in doubt, just ask the manufacturer of the product you are using and they can let you know how to correctly use the product and if it is safe during pregnancy online pharmacy finax While some may say this because they are unaware of the diagnosis s significance and the treatment involved, others may say this in an attempt to make you feel better i

Karayanra turned his horse s head and smirked at a teenage druid boy cialis generic

Leave a comment